প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে দেশটির জান্তা-সমর্থিত সরকার। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছে মিয়ানমার।
শনিবার ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে প্রবেশের সময়ে প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন একটি বার্তা দিল মিয়ানমার।
মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকায় থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ যাচাই করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে মিয়ানমার নিজ ভূখণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করেছে।
তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ৪ হাজার ২৪১ জনকে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার দাবিও করা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ওই সময় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে অবস্থান করছিল।
মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা ও নৃশংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা হয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। তবে মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয় অস্বীকার করে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
২০১৭ সালের পর কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এদিকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে জীবনযাত্রার সংকট, সহায়তা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মিয়ানমারের নতুন ঘোষণায় প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি হলেও বাস্তবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



