রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতির আশ্বাস মিয়ানমারের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতির আশ্বাস মিয়ানমারের

সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাওয়া তালিকার যাচাই-বাছাই কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে এ তথ্য জানান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে জোর দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানানো হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তথ্য ও তালিকা যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।

রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপথে যোগাযোগ উন্নয়ন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, বাণিজ্য, পরিবহন ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চায় বাংলাদেশ। তবে এ প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!