রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছর থেকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছর থেকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংকট আর দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক কোনোভাবেই যেন দুই দশকে পরিণত না হয়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, একটি সরকারের জন্য ১০ বছর হয়তো দীর্ঘ একটি নীতিগত সময়কাল। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এই সময়টাই তার পুরো শৈশব। একজন তরুণের কাছে এটি শিক্ষাজীবনের হারানো সময়, আর একটি পরিবারের কাছে দীর্ঘ এক দশকের ঘরহীন জীবন। তাই এই সংকটকে আরেক দশকে গড়াতে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের পর মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সীমিত সম্পদ ও নানা চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে। ফলে এর চূড়ান্ত সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ২০১৭ সালের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাইয়ের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। বিশ্বাসযোগ্য যাচাই প্রক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, অর্থের ঘাটতি তৈরি হলেও শরণার্থীদের খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, পানি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার প্রয়োজন কমেনি। মানবিক সহায়তা কমে গেলে শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা—উভয় জনগোষ্ঠীর ওপরই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিনের এই সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের জমি, পরিবেশ, জীবিকা ও বিভিন্ন নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তাই আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের পথ এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর জবাবদিহি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা করা জরুরি হলেও সেটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত না করে দ্রুত এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!