রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুক্তির ৯ বছর পরও ফেরেনি ১২ লাখ রোহিঙ্গার একজনও

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৯:২১ এএম

চুক্তির ৯ বছর পরও ফেরেনি ১২ লাখ রোহিঙ্গার একজনও

সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বড় আকারে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি মানুষের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি খুবই সীমিত। পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বসতভিটায় ফেরার অধিকারসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া বারবার থমকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২০১৭ সালের বড় ঢলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে আশ্রয়শিবিরগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুসহ মোট সংখ্যা আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে আনুমানিক আরও দেড় লাখ মানুষ বাংলাদেশে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০২০ সালে রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠায়। ওই তালিকায় থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের মধ্যে মিয়ানমার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের পরিচয় যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি শিবিরে মানবিক সহায়তা নিয়েও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার অর্থসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠেছে। মাদক ও মানব পাচার, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাত এবং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও সেখানে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যা নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তের ওপারে রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজেদের দেশে ফিরতে চায়। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং নিজ নিজ বসতভিটায় ফেরার সুযোগ। আন্তর্জাতিক মহলও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান কঠিন হতে পারে। মিয়ানমারের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা জরুরি। তা না হলে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!