প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ছয়জন রোহিঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে বন্দি থাকা এসব জেলেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিজিবির উদ্যোগে নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে গ্রহণ করা হয়। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের অস্পষ্টতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এসব জেলে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এরপর তাদের আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। মুক্তি পাওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় সীমান্ত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে বিজিবি।
ফেরত আসা জেলেদের কয়েকজন জানিয়েছেন, মিয়ানমারে আটক থাকার সময় তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় নিয়মিত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হতো না। অনেককে জোর করে মাটি কাটা, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কাজ করতে সামান্য দেরি বা অনীহা দেখালেই মারধর করা হতো বলে জানিয়েছেন তারা।
ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে কেউ প্রায় আট মাস, আবার কেউ দুই বছর পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর দেশে ফিরতে পেরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। পরে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৪৮ জন জেলেকে মিয়ানমার থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বুধবার দেশে আনা ২৪ জনের পরিচয় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করা হয়। পরে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪৩৪ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরলেও এখনো ৮৬ জন জেলে মিয়ানমারে বন্দি রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সীমান্ত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে ২৪ জেলের দেশে ফেরাকে স্বজনদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে এখনো আটক থাকা জেলেদের দ্রুত মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।



