প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
গাজা উপত্যকায় প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাঁর এমন বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক কথোপকথনভিত্তিক অনুষ্ঠানে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলোচনার সময় বেন-গভির গাজা নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন ও অধিকার নিয়ে অত্যন্ত উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও কঠোর করার পক্ষেও তিনি মত দেন।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় সামরিক হামলা সীমিত রাখার যে ব্যবস্থা রয়েছে, বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের উচিত আবারও হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য সম্প্রসারণ করা এবং শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য না করে আরও ব্যাপক অভিযান চালানো।
তবে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বেন-গভির সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। তিনি দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার সদস্য। যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই মন্ত্রিসভার ভূমিকা রয়েছে।
আলোচনায় সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজে নিজে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে বেন-গভির তাকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ বক্তব্যও নতুন করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বেন-গভির। একই সঙ্গে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও তিনি কথা বলেন এবং গাজাকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে দেখার কথা জানান।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভূখণ্ড থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক বা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রশ্ন তুলতে পারে। বেন-গভিরের বক্তব্য তাই শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নিয়েও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বেন-গভির এর আগেও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে কঠোর আচরণ এবং মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে তাঁর অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি দেশ ও জোট নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকার দাবি করা হচ্ছে। ফলে বেন-গভিরের সর্বশেষ বক্তব্য অঞ্চলটির চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



