রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার উৎপাদিত তেলের প্রায় অর্ধেকই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

ভেনেজুয়েলার উৎপাদিত তেলের প্রায় অর্ধেকই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। দেশটির দৈনিক উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি ব্যারেল যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাইল হস্টভেইট মঙ্গলবার হিউস্টনে একটি জ্বালানি শিল্প সম্মেলনে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি নিয়ে এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের এমন কিছু শোধনাগারে যাচ্ছে, যেগুলো ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ তেল পরিশোধনের উপযোগী করে তৈরি।

কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি এতটা বদলে যায়নি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলায় দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল। বর্তমানে সেই পরিমাণ পাঁচ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়েছে।

তেল সম্পদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ৩০ হাজার ৩০ কোটি ব্যারেল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব থেকে জানা যায়। তবে দেশটির তেল তুলনামূলকভাবে ভারী এবং এতে সালফারের পরিমাণ বেশি। এ কারণে সব ধরনের শোধনাগারে এই তেল প্রক্রিয়াজাত করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু শোধনাগার দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রাখে।

ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতেও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেলের বেশি ন্যাফথা বা হালকা পেট্রোলিয়ামজাত তরল ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। ভারী অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে এই তরল মিশিয়ে তা পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তাও উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১২ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে চলতি বছরে দেশটির তেল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও বেড়েছে। মাদুরো সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর দেশটির তেল সম্পদ ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থের ওপর নজরদারির কথাও জানানো হয়েছে।

তবে তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থের পরিমাণ, সেই অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও দেশটির অর্থনীতিতে এর সুফল কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!