রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

সংগৃহীত

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ত্রাণবহরের ওপর হামলা, যাত্রীদের আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। একই ঘটনায় ইসরায়েলের আরেক নাগরিক আফেক মোসকোভিচের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তুরস্কের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা মানবিক সহায়তাবাহী ত্রাণবহরের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এবং আটকের ঘটনায় নেতানিয়াহু ও অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা রয়েছে। এ ঘটনায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুরুতরভাবে স্বাধীনতা হরণ, নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস, লুটপাট এবং যানবাহন ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের একটি ফৌজদারি আদালতে এই ঘটনায় মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে তুরস্কে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এবার তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে লাল সতর্কতা জারির প্রক্রিয়া শুরু করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহরকে ঘিরে। ত্রাণবহরে খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪৩০ জন মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন। গাজার কাছে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি বাহিনী বহরটি আটকে দেয় এবং অংশগ্রহণকারীদের আটক করে ইসরায়েলে নিয়ে যায়। পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এই ঘটনার পর তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপের উদ্যোগ নেয়। ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াতেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

তবে তুরস্কের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর দপ্তর তুরস্কের উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন দেশের আইনি অবস্থানের ওপর। আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি সতর্কতা জারি হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো দেশে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে না; সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!