প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০২:০০ পিএম
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ফিলিস্তিনের গাজায় এখন নিহতদের দাফনের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। একের পর এক কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের বাধ্য হয়ে বাগান, তাঁবু, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলের মতো অস্থায়ী জায়গায় মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে।
যুদ্ধের আগে গাজার অনেক কবরস্থানই প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে নতুন করে কবর দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেইতুন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার স্বজনেরা দাফনের জন্য কবরস্থানে গিয়ে জায়গার তীব্র সংকট দেখতে পান। নতুন কবর খোঁড়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে তার বাবার কবরে দাফন করা হয়।
যুদ্ধের কারণে অনেক কবরের পরিচয়ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও পাথর বা কাগজে মৃত ব্যক্তির নাম লিখে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। আবার নির্মাণসামগ্রীর সংকটে ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদা ও ঢেউটিন ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে কবরের চিহ্ন তৈরি করা হচ্ছে।
খান ইউনিসের একটি কবরস্থানে যুদ্ধের আগে যেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল, সেখানে এখন প্রায় ৬ হাজার কবর রয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে একজন কবরখোদককে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল চত্বরে তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্বজনেরা অস্থায়ী কবর ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ তুলে স্থায়ীভাবে দাফনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



