প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ইসরাইলি হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকায় এবার দেখা দিয়েছে মরদেহ দাফনের জায়গার তীব্র সংকট। একের পর এক কবরস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতেও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন ফিলিস্তিনিরা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্রিয়জনের মরদেহ বাড়ির আঙিনা, বাগান, বিদ্যালয়, তাঁবু কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে দাফন করছে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে বিদ্যমান কবরস্থানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের আগে গাজার প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই ধারণক্ষমতার কাছাকাছি ছিল। সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হওয়া অস্থায়ী গণকবর থেকেও মরদেহ উদ্ধার করে পরে কবরস্থানে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে।
গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালের সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর ধ্বংসস্তূপ ও অস্থায়ী কবর থেকে স্বজনদের মরদেহ খুঁজে বের করে নিয়মিত কবরস্থানে স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়। তবে জায়গার সংকটের কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।
দাফনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী, কবরের ফলক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটে একটি মরদেহ দাফনে খরচ এখন প্রায় ৭০০ থেকে এক হাজার ইসরাইলি মুদ্রায় পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কবর চিহ্নিত করতে কোথাও পাথর, কোথাও কাগজ, কাদা কিংবা ধ্বংস হওয়া ভবনের টুকরো ব্যবহার করা হচ্ছে।
খান ইউনিসের একটি কবরস্থানে কাজ করা কবর খননকারী তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে অল্পসংখ্যক কবর ছিল। এখন সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। একপর্যায়ে তাকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর খনন করতে হয়েছে।
তার অভিজ্ঞতায়, যে ধ্বংসস্তূপে মানুষের ঘরবাড়ি পরিণত হয়েছে, সেখান থেকেই এখন মৃতদের জন্য শেষ আশ্রয় তৈরি করতে হচ্ছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু জীবিতদের জীবনকেই বিপর্যস্ত করেনি, মৃতদের মর্যাদাপূর্ণ দাফনের সুযোগও সংকুচিত করে দিয়েছে।
গাজার এই পরিস্থিতি সেখানে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের আরেকটি নির্মম চিত্র সামনে এনেছে। খাবার, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের পাশাপাশি এখন মৃতদের জন্য একটি নিরাপদ কবরের জায়গাও বহু পরিবারের কাছে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।



