প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ইসরায়েলের ড্যামন কারাগারে আটক গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টির অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত খাবার, প্রয়োজনীয় পোশাক এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার অভিযোগ, গর্ভবতী নারীদের শারীরিক অবস্থার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি হলেও কারাগারে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই। এতে অনাগত সন্তানসহ বন্দিদের জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মানার ইব্রাহিম কারাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, গত ৮ জুলাইয়ের পর তিনি আর কোনো গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারেননি। দুই সন্তানের এই মা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চুলকানি ও ত্বকে ক্ষতসহ সমস্যায় ভুগছেন। তার উপসর্গ খোসপাঁচড়ার মতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটকের আগে কারাজার ওজন ছিল প্রায় ৬০ কেজি। আটকের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে তার ওজন কমে ৫৪ কেজিতে নেমে যায়। পরবর্তী সময়ে কিছুটা বেড়ে ৫৭ কেজি হলেও গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সংস্থাটির অভিযোগ, কারাগারে সরবরাহ করা খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন থাকলেও তাদের খাবারে সেই চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত পুষ্টি নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
আরেক গর্ভবতী বন্দি দানা জুদেহকে নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে তার গর্ভাবস্থার নবম মাস শুরু হওয়ার কথা। ফলে তার চিকিৎসা ও প্রসব-পূর্ব পর্যবেক্ষণ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পুষ্টিকর খাবার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার উপকরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মানার কারাজার ত্বকের সমস্যার দ্রুত চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার গর্ভাবস্থার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী বন্দিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা অবহেলা শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, গর্ভের শিশুর জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই মানবিক ও চিকিৎসাগত বিবেচনায় তাদের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



