রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয়: ভারতীয় হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয়: ভারতীয় হাইকোর্ট

সংগৃহীত

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি মামলার রায়ে পর্যবেক্ষণ করেছে, হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়, যা অনুসরণ না করলে ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর এবং বৈষম্যহীন হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সেই পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো অংশ যুক্ত করার অধিকার দাবি করতে পারে না।

উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রী এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে সে একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাচ্ছিল। তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব বা মাথার কাপড় পরার অনুমতি দেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

আবেদনে ওই ছাত্রী দাবি করে, ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন এবং সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওই পোশাক পরে বিদ্যালয়ে আসছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। ধর্ম, সামাজিক পরিচয় কিংবা অন্য কোনো কারণে কাউকে আলাদা পোশাক ব্যবহারের সুযোগ দিলে পোশাকের একরূপতা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ব্যাহত হতে পারে।

বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়। ২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করার পক্ষে আবেদনে যথেষ্ট নির্দিষ্ট ভিত্তি উপস্থাপন করা হয়নি।

আদালত আরও বলে, একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি সবার জন্য একই পোশাকবিধি নির্ধারণ করে এবং তা ন্যায্য ও বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করে, তাহলে সেই বিধি অনুসরণ করা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব। ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে একজনকে পোশাকে আলাদা সুবিধা দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকবিধির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

মামলায় রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডও ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত আদালত প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধিকে বহাল রেখে আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!