প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা জীবনের নানা সংকটে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে ফিরে আসার পথ দেখিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো; আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা মুমিন : ৬০)
তবে দোয়া করার ক্ষেত্রেও কিছু আদব ও শর্ত রয়েছে। দোয়া কবুলের ব্যাপারে বান্দার বিশ্বাস, একনিষ্ঠতা, ধৈর্য এবং হালাল জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু বিপদের সময় নয়, স্বাভাবিক সময়েও নিয়মিত আল্লাহর কাছে দোয়া করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া
দোয়া করার সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রার্থনা শুনছেন এবং তিনি চাইলে তা কবুল করতে পারেন—এ বিশ্বাস অন্তরে দৃঢ় রাখতে হবে। দোয়া করতে গিয়ে সংশয় বা হতাশা প্রকাশ করা উচিত নয়। হাদিসে দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি দৃঢ় প্রত্যাশা রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী রাখার কথাও বলা হয়েছে।
দোয়া কবুল নিয়ে হতাশ না হওয়া
অনেক সময় মানুষ দ্রুত ফল না পেয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেন। কিন্তু মুমিনের জন্য এমন আচরণ কাম্য নয়। কোনো দোয়া করার পর সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং ধৈর্য ধরে বারবার দোয়া করে যেতে হবে।
হাদিসের শিক্ষা হলো, বান্দার দোয়া বিভিন্নভাবে কবুল হতে পারে। কখনো দুনিয়াতেই তার চাওয়া পূরণ করা হয়, কখনো সেই দোয়ার প্রতিদান পরকালের জন্য সংরক্ষিত থাকে, আবার কখনো দোয়ার বরকতে কোনো বিপদ তার জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ইখলাস বা একনিষ্ঠতা থাকা
দোয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইখলাস। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা। বিপদের সময় মানুষ সাধারণত সব ধরনের পার্থিব নির্ভরতা থেকে সরে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। কোরআনে সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষের উদাহরণ দিয়ে তাদের একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সুরা আনকাবুত : ৬৫)
এ থেকে বোঝা যায়, দোয়ার ক্ষেত্রে অন্তরের একাগ্রতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পাঠ
দোয়া করার আগে ও পরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা উত্তম। আলেমরা দোয়ার আদবের আলোচনায় দরুদের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। তাই দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা, এরপর নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করে নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরা এবং শেষে আবার দরুদ পড়া সুন্দর আমল হিসেবে বিবেচিত।
হারাম থেকে নিজেকে দূরে রাখা
দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যিনি দীর্ঘ সফরের কারণে ক্লান্ত ও ধূলিমলিন অবস্থায় আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করছেন; কিন্তু তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং তার জীবনযাপনও হারাম উপার্জনের সঙ্গে জড়িত। এমন অবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে—হাদিসে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। (তিরমিজি)
তাই দোয়া কবুলের আশা করলে হালাল উপার্জন, হালাল খাদ্য এবং পবিত্র জীবনযাপনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ধৈর্য ও নিয়মিত দোয়া
একটি দোয়া দীর্ঘদিনেও পূরণ না হলে তা নিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ কখন, কীভাবে এবং কোন উপায়ে বান্দার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করবেন—তা মানুষ জানে না। তাই কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি দ্রুত না পেলেও দোয়া অব্যাহত রাখা উচিত।
মনে রাখতে হবে, আন্তরিক দোয়া কখনোই অর্থহীন হয়ে যায় না। একজন মুমিনের কাজ হলো নিজের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা এবং ফলাফলের ব্যাপারে তাঁর ওপর ভরসা রাখা। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, অন্তরে প্রশান্তি পায় এবং বিপদের সময় আশাবাদী থাকতে শেখে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইখলাসের সঙ্গে তাঁর কাছে দোয়া করার, হালাল পথে জীবনযাপন করার এবং দোয়া কবুলে বিলম্ব হলেও হতাশ না হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।



