প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে কোনো মুসলিম দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সূচনা ইরান করেনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে হামলার মুখে তার দেশ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক বিভেদ ও মতপার্থক্য কমিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। বিভক্ত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে বাইরের শক্তি যেন মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কোনো দেশ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না। একইভাবে একটি মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক বিরোধের সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিজ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান কোনো দুর্বল অবস্থানে নেই এবং প্রয়োজন হলে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার সক্ষমতা তার রয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি।
তার বক্তব্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। বিশেষ করে কোনো দেশের ভূখণ্ডকে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানি প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তার আহ্বানের মূল বার্তা হলো—মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।



