প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
বসনিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় প্রায় আট হাজার মুসলমানকে হত্যার পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তিনি বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত ছিলেন। এ কারণে তাকে ‘বসনিয়ার কসাই’ নামেও অভিহিত করা হতো।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য নৃশংসতার সঙ্গে ম্লাদিচের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংস ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত ওই এলাকায় হাজার হাজার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে আপিলের মাধ্যমেও তার দণ্ড বহাল থাকে। আদালত তার কর্মকাণ্ডকে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন।
জীবনের শেষ কয়েক বছর কারাগারে কাটিয়েছেন ম্লাদিচ। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের কারাগার হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর বসনিয়া যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং স্রেব্রেনিৎসার গণহত্যার স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।
ম্লাদিচ ছিলেন বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ সামরিক কমান্ডার। যুদ্ধ চলাকালে তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনায় তার ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বসনিয়া যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত যুদ্ধাপরাধীর জীবনের অবসান হলো। তবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ এবং স্রেব্রেনিৎসাসহ বসনিয়া যুদ্ধের নিহতদের স্মৃতি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত থাকবে।



