প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বতের দুই পাশ মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বড় ধরনের দুর্যোগের পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা, একই ব্যক্তির একাধিকবার হিসাব হওয়া এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের সমস্যার কারণে প্রাথমিক পরিসংখ্যানে পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
নেপালের দুর্যোগবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৯১০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সংখ্যা ৬৬৭ জন। এই তালিকায় নেপালি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিক উভয়েই রয়েছেন।
সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের চীনা অংশে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। দুই অঞ্চলের তথ্য একত্র করলে নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জনে পৌঁছায়।
দুর্যোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৫৬ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৯ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া চীন, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে বিভিন্ন দেশের নিজ নিজ সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ৯০ জন নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কানাডার ক্ষেত্রেও দেশটির সরকারের হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে থাকা ৩০ জন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
উদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যেও বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন। জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি—এমন কয়েকজনকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমানে দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও নিখোঁজের পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে।



