প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ক্রমেই প্রচলিত স্থলসংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম লক্ষ্যবস্তু এবং দূরপাল্লার হামলার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার যুদ্ধের কৌশল ও সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে নিজস্বভাবে উন্নত অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম করে তোলার পশ্চিমা উদ্যোগও সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার। রুশ বাহিনী বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোনের পাশাপাশি ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখার প্রয়োজন পড়ছে এবং যুদ্ধের ব্যয়ও বাড়ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা বাড়াতে পশ্চিমা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়ানোকে কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউক্রেন নিজ ভূখণ্ডে এ ধরনের অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে।
তবে এমন পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সরাসরি সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে রাশিয়া পশ্চিমা সহায়তা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে সাইবার হামলা, নাশকতা কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো কৌশল গ্রহণ করতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
যুদ্ধক্ষেত্রেও সংঘাতের তীব্রতা কমার লক্ষণ নেই। পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও যুদ্ধের আন্তর্জাতিক মাত্রা বাড়িয়েছে। তবে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া সেনা ও অস্ত্রসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে শুধু স্থলভাগে দখল নেওয়ার লড়াই নয়, বরং ড্রোন প্রতিরোধ, দূরপাল্লার অস্ত্রের উৎপাদন, সামরিক প্রযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে যুদ্ধের ফল নির্ধারণে সামনের সারির লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই পক্ষের শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।



