রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন সংকটে পড়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উঠছে। ফলে নিহতের সংখ্যা যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি হাসপাতালের মর্গগুলোতেও তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। অনেক জায়গায় মরদেহ রাখার স্বাভাবিক ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়ায় বিকল্প ভবনকে অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৯৭৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যার পানির স্রোতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ নদীপথে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। রসুয়া ও নুয়াকোটের মতো এলাকা থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ পরবর্তী সময়ে চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন ও নওয়ালপরাসিসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার করা হচ্ছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণের চাপ বাড়ছে।

চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ২২১টি মরদেহ পাওয়া গেছে। নওয়ালপরাসি পূর্বাঞ্চলে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মরদেহ। এ ছাড়া গোরখা, নুয়াকোট, ধাদিং, তানাহুন, নওয়ালপরাসি পশ্চিম ও রসুয়া থেকেও বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক সময়ে কয়েক ডজন মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকলেও বন্যার পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মরদেহ আসায় সেই ব্যবস্থা কার্যত অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ একটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শুধু চিতওয়ান নয়, নওয়ালপরাসি ও গোরখাসহ আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও হাসপাতালের মর্গের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় মরদেহ পাশের জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কোথাও আবার হাসপাতালের বাইরে সরকারি ভবন, সভাকক্ষ বা অন্য স্থাপনা সাময়িকভাবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মরদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা। অনেক মরদেহ নদীর পানিতে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকায় সেগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের আগে পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ মরদেহ শনাক্ত করতে ছবি, আঙুলের ছাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে পরবর্তী সময়ে শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। নদী ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নদীর প্রবল স্রোতের কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

বন্যার ভয়াবহতায় নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এখন নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ মরদেহ শনাক্তকরণকেন্দ্রগুলোতে ছুটে আসছেন। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি স্বজনদের তথ্য দেওয়াও প্রশাসনের জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।

মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় এক হাজার হওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নদীর স্রোতে দূর-দূরান্তে মরদেহ ভেসে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে। তাই একদিকে উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্তকরণ—দুই দিক সামলাতেই এখন কঠিন সময় পার করছে নেপাল।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!