রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিয়োগের চেয়ে প্রতি মাসে ৬ হাজার বেশি সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

নিয়োগের চেয়ে প্রতি মাসে ৬ হাজার বেশি সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে জনবল সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে। নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার চেষ্টা চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ও আহত সেনাদের সংখ্যা পূরণ করতে তা যথেষ্ট হচ্ছে না। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়া প্রতি মাসে যত সেনা হারাচ্ছে, তার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার কম নতুন সেনা নিয়োগ দিতে পারছে।

তবে সেনা নিয়োগের গতি একেবারে থেমে যায়নি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মানুষ রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু গত দুই মাসে এই নিয়োগের হার যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর মোট ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মস্কোর জন্য জনবল একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশের রাজনৈতিক ঝুঁকি। ২০২২ সালের শরতে রাশিয়া সর্বশেষ বড় আকারে সেনা সমাবেশ করেছিল। ওই সময় বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে যান। তাদের মধ্যে দক্ষ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ছিল। পরবর্তীতে তাদের একটি অংশ দেশে ফিরলেও সবাই ফিরে আসেননি বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি।

নতুন করে কয়েক লাখ সেনা নিয়োগের সক্ষমতা থাকলেও তাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সেনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তা পাওয়া যাবে কি না, সেটিও রুশ বাহিনীর জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনবল ঘাটতির মধ্যেই ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়ার কথা জানিয়েছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ানো মস্কোর অন্যতম কৌশল হতে পারে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি এবং দীর্ঘ যুদ্ধের প্রতি তাদের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হতে পারে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে। এতে রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কিয়েভ তার মিত্রদের কাছে আরও দূরপাল্লার অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যও ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কিয়েভ সফরে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।

ইউক্রেনকে পশ্চিমা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া অবশ্য কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে মস্কো। রুশ পক্ষ থেকে ইউক্রেনের পাশাপাশি দেশটির বাইরে থাকা ব্রিটিশ সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হলো, রাশিয়া ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে চায় না। তাদের মতে, ভয় দেখানো, রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করাই মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাইবার হামলা, প্রক্সি গোষ্ঠীর ব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের গোপন তৎপরতার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। তবে সরাসরি সংঘাত এড়াতে এসব তৎপরতার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন রাশিয়ার জন্য শুধু অস্ত্র ও অর্থের লড়াই নয়, জনবলেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, নতুন সেনা নিয়োগের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি পূরণের সক্ষমতা কমে আসা মস্কোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ইউক্রেনের মিত্রদের সমর্থন কতদিন এবং কতটা শক্তিশালী থাকে, সেটিও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!