প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এরই মধ্যে বন্যার পানিতে ভেসে আসা একটি ব্যাংকের লকার ভেঙে অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নেপালি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে একটি ব্যাংকের লকার ভেসে যায়। পরে সেটি ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকার কাছে ত্রিশূলী নদীর তীরে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
লকারটি উদ্ধারের পর স্থানীয় কয়েকজন সেটি ভেঙে ভেতরে থাকা অর্থ নিয়ে গেছেন—এমন খবর পায় পুলিশ। বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠানো হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন ২৯ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। উদ্ধার করা অর্থের প্রকৃত উৎস এবং লকারটি কোন ব্যাংকের, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই ধাদিং জেলার গালছি এলাকার মাস্তার গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকজনের বাড়ি আদমঘাট ও সিদ্ধালেক এলাকার আদমতারে। আবার চিতওয়ান ও পারসার বাসিন্দা কয়েকজন বর্তমানে ধাদিং এলাকায় বসবাস করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, লকারটি ভেঙে অর্থ নেওয়ার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বাইরে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না। উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ও উৎস যাচাইয়ের পাশাপাশি লকারটি কীভাবে নদীর স্রোতে ভেসে গেল, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বন্যার ভয়াবহতার মধ্যেই নেপালে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। নারায়ণী নদীর স্রোতে ভেসে আসা এক নারীর মরদেহ থেকে সোনার কানের দুল খুলে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে তাঁদের শনাক্ত করে আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে আসা মরদেহের কাছ থেকে তাঁরা কানের দুলের মতো একটি বস্তু খুলে নিচ্ছেন।
এদিকে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৬৬৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। এর আগের হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪ জন। অর্থাৎ নতুন করে নিখোঁজের তালিকায় আরও পাঁচ শতাধিক মানুষের নাম যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যার আঘাতের কয়েক দিন পরও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রবল স্রোত, কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেই লকার ভেঙে অর্থ নেওয়া ও মরদেহ থেকে অলংকার চুরির মতো ঘটনায় মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



