প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের অবসানে শান্তিপূর্ণ যেকোনো উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এখন সংঘাত বন্ধ করে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মোদি। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
মোদি বলেন, ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকেই ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে কোনো পক্ষেরই স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অন্তহীন সংঘাতের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি আরও বলেন, বিশ্বের যেকোনো সংকটের সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থ জড়িত নয়, বরং বৃহত্তর মানবিক স্বার্থও জড়িত। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদির এই বক্তব্য তার আগের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন, বর্তমান সময় যুদ্ধের নয়। সেই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। এবারও যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে একই ধরনের বার্তা দিলেন তিনি।
বিশকেকের বৈঠকে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত সরাসরি কোনো পক্ষের অবস্থান না নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। মোদির সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই নীতিরই পুনরুল্লেখ দেখা গেল।



