রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬২

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬২

ফাইল ছবি

ভয়াবহ বন্যা ও প্রবল স্রোতে বিপর্যস্ত নেপালে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় একদিকে যেমন বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা, অন্যদিকে নিখোঁজ মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় চার হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে নেপালের নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্যোগের সময় বাড়িটি বন্যার পানি ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধারকারীরা সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

শুধু নেপালের ভূখণ্ডেই নয়, প্রতিবেশী ভারতের গণ্ডক নদী থেকেও আরও ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এসব মরদেহ নেপালের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতায় নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। রাসুয়ার উত্তরগয়া গ্রামের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও চাপ বাড়ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। টানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ত্রিশুলি নদীর তীরে অবস্থিত থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযান ষষ্ঠ দিনের মতো স্থগিত রাখতে হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় দুর্গম পরিবেশ, ধস এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীরা চাইলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ চালাতে পারছেন না।

একই অঞ্চলের থ্রি-বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অন্তত ১১৮ জন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা অভিযানকে কঠিন করে তুলেছে।

নেপালের বিভিন্ন সড়ক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও সড়কের ওপর ধস নেমেছে, কোথাও আবার প্রবল স্রোতে সেতু ও যোগাযোগপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানি, ওষুধসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক এলাকায় নিরাপদে প্রবেশ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে উদ্ধারকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠা বাড়ছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি। দুর্গম অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারলে মৃত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে নেপালের বহু মানুষ এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!