রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১২

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১২

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই হামলার মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলা অব্যাহত থাকল।

রাতভর রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলায় আবাসিক ভবন, রেল অবকাঠামো, গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ব্যাপকসংখ্যক চালকবিহীন আকাশযান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। নতুন ধরনের জেটচালিত আকাশযান ব্যবহারের কারণে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিহত করা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় দিন-রাত ধরে চলা হামলার কারণে রাজধানীর লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা জানান, রাতভর চালানো হামলায় আবাসিক এলাকা ও রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহারের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে হামলার পাশাপাশি রাজধানীর বাইরে বোরিসপিল এলাকাতেও হামলা হয়েছে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানায় চারজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।

হামলায় কিয়েভের রেল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রেল কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি রেল ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে কয়েকজন রেলকর্মী নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অঞ্চলটির বন্দর ও জাহাজে ধারাবাহিক হামলার কারণে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। হামলার কারণে বহু পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডেও ইউক্রেনের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন ধরে যায়। সামারা অঞ্চলেও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ ছাড়া ইউক্রেনের হামলায় ব্যবহৃত একটি আকাশযান কিছু সময়ের জন্য এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। ভূখণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাদের ইউক্রেন সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের কাজ চলছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই কিয়েভে নতুন করে রুশ হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!