প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
নেপালের ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জেলা এবং প্রতিবেশী ভারত থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোট থেকে ১৫৫টি, ধাদিং থেকে ৫৯টি, চিতাওয়ান থেকে ৩৪৮টি, গোর্খা থেকে ৬৬টি, তানাহুন থেকে ৩৮টি, নাওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে ২১৭টি এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিম থেকে ১৯০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশী ভারত থেকেও ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১১৩টির ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য ৯১১টি মরদেহের বিস্তারিত পরিচয় পুলিশের নিজস্ব তথ্যভান্ডারে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বজনরা নিখোঁজ প্রিয়জনের পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা শুধু আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজই করছেন না, একই সঙ্গে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের কাজও করছেন।
এ পর্যন্ত বন্যার পানি থেকে ৬ হাজার ৫৪১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ৪ হাজার ৮৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক পরিবারকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোও দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।
গত বুধবার সকালে ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতের সঙ্গে বড় বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচু এলাকায় ভেসে আসায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আকস্মিক এই দুর্যোগে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
দুর্যোগের ছয় দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।



