প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ইসরায়েলের নাজারেথ শহরে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে চারটি হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে শহরটিতে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমে নূর নাফাফিয়া ও নূর খলু নামের দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁরা একটি গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
ওই জোড়া হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। মোস্তফা বাদরা নামের ২৭ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির আঙিনায় অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা সেখানে পৌঁছে গুলি চালালে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে গুলি করা হয়। আগের জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের আরেকটি এলাকায় গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী মাহমুদ বিয়াত্রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যু নাজারেথে এক দিনেরও কম সময়ে চতুর্থ হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়।
চতুর্থ হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ শহরের বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত স্থাপনা ও সন্দেহভাজনদের অবস্থানস্থলে অভিযান শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। কয়েকটি স্থানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের পায়ে হেঁটে ধাওয়া করে আটক করে।
পুলিশের হিসাবে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ১০ জনকে আটক করা হয়। এর আগের রাতের অভিযানে আরও ২০ জনকে আটক করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই রাতের অভিযানে আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ জনে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শহরের অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় একটি পিস্তল, একটি হাতবোমা, গুলি এবং আরও কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব অস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর চলমান সংঘাতে ব্যবহার করা হতে পারে। অস্ত্রগুলো জব্দের মাধ্যমে আরও সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
নাজারেথে গত এক বছর ধরে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব পর্যায়ের কয়েকজনকে এরই মধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর শহরে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংস অপরাধের ব্যাপকতাকেও সামনে এনেছে। চলতি বছর দেশটির আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৭২-এ পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংখ্যা গত কয়েক বছরের ভয়াবহ সহিংসতার ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরছে।
নাজারেথের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তিরা জড়িত, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে পরপর চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘাতে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



