রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‍‍`লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক‍‍` ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

‍‍`লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক‍‍` ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

ফাইল ছবি

পবিত্র হজের প্রধান দিন আজ মঙ্গলবার। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসলমানের উপস্থিতিতে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দান পরিণত হয়েছে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সমাবেশে। সকাল থেকেই আকাশ-বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’—তালবিয়ার পবিত্র ধ্বনি, যা পুরো পরিবেশকে এক অনন্য ধর্মীয় আবহে রূপ দিয়েছে।

আজকের এই দিনে মুসল্লিরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া, জিকির ও ইবাদতে মগ্ন থাকবেন। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এই দিনটিকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় চার বর্গমাইল বিস্তৃত এই সমতল ভূমিতে চারদিকে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে তৈরি হয়েছে এক অনন্য পবিত্র দৃশ্য।

এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় ষোল লাখেরও বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ সুবিধামতো স্থানে অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায় ও ইবাদত করছেন। দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে হজের খুতবা, যা মুসল্লিরা মনোযোগসহকারে শ্রবণ করবেন। এরপর জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করা হবে।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং সারা রাত অবস্থান করবেন। সেখান থেকেই জামারাতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর সংগ্রহ করা হবে।

পরদিন মিনায় ফিরে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শয়তান প্রতীকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারতের মাধ্যমে হজের ধারাবাহিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর কয়েকদিন মিনায় অবস্থান করে নির্দিষ্ট সময়ে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

গতকাল থেকেই হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করছেন। তাঁবুর নগরী নামে পরিচিত এই এলাকায় লাখ লাখ হজযাত্রীর জন্য অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি তাঁবুতে প্রয়োজনীয় সুবিধা, বিশ্রাম এবং ইবাদতের উপযোগী পরিবেশ রাখা হয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যেও এবারের হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়ায়। তাপমাত্রা প্রায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। হিট স্ট্রোক ও তাপজনিত অসুস্থতা এড়াতে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র ও হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হজের খুতবা এবার বিশ্বের বহু ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা সহজে তা বুঝতে পারেন। বাংলা ভাষাসহ প্রায় ৫০টি ভাষায় এই খুতবা সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আধ্যাত্মিক আবহে ভরপুর আরাফাতের ময়দান আজ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!