রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ পবিত্র হজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

আজ পবিত্র হজ

ফাইল ছবি

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনকে ঘিরে সৌদি আরবের মক্কা, মিনা ও আরাফার বিস্তীর্ণ এলাকা আজ ধর্মীয় আবেগ, প্রার্থনা এবং ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে। ৯ জিলহজের এই বিশেষ দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও গুনাহ মাফের আশায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

হজের ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আগের দিন মিনায় অবস্থান শেষে আজ ভোরে হাজিরা আরাফার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। ফজরের নামাজ আদায়ের পর বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে লাখো মুসল্লিকে নিরাপদে আরাফার ময়দানে পৌঁছে দেওয়া হয়। হাজিদের যাতায়াতে কোনো ধরনের ভোগান্তি এড়াতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। হাজার হাজার যানবাহন নিয়োজিত রেখে যাত্রাপথ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরাফার ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা পাঠ করা হয়, যা মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছরের খুতবা প্রদান করেন পবিত্র মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সুবিধার্থে খুতবা একাধিক ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে ধর্মীয় বাণী আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে যায়।

খুতবা শেষে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার পবিত্র ময়দানে অবস্থান করে বিশেষ দোয়া, জিকির ও মোনাজাতে সময় কাটান তারা। অনেক মুসল্লিকে চোখের পানিতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে আন্তরিক প্রার্থনা মহান আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন।

সূর্য অস্ত যাওয়ার পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর সংগ্রহ করবেন।

পরবর্তী দিনে মিনায় ফিরে হাজিরা হজের আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফ।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সহায়তা, নিরাপত্তা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক জনবল মোতায়েন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুরো হজ ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি হজ পালনে অংশ নিয়েছেন। তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!