প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
অল্প সময়ের মধ্যে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে আলোচনায় এসেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার কৃতী সন্তান মুহাম্মদ আল আমিন। মাত্র ৮ মাস ৩ দিনের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও একাগ্রতায় হিফজ সম্পন্ন করে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে গর্বের উপলক্ষ তৈরি করেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, মুহাম্মদ আল আমিন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের বিরবিরি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা নেছার উদ্দিন এবং মাতা রোকসানা বেগম। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আল আমিন রাজধানীভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারকাযুল হুফ্ফায আন্তর্জাতিক মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় হিফজ সম্পন্ন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল হিফজ কার্যক্রম শুরু করেন এবং ২০২৬ সালের ১০ মে সফলভাবে তা সম্পন্ন করেন। মাঝের ছুটি ও বন্ধের দিন বাদ দিলে প্রকৃত সময় দাঁড়ায় মাত্র ৮ মাস ৩ দিন, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ও অনুকরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আল আমিন নিয়মিত অধ্যবসায়ী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রতিদিনের পাঠ মুখস্থ করার পাশাপাশি পূর্বের পাঠ ঝালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার আন্তরিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তার এই সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাতিয়ার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হতে উৎসাহিত করবে। ইতোমধ্যে এলাকায় তাকে অভিনন্দন জানাতে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানা যায়, মুহাম্মদ আল আমিন বড় হয়ে দ্বীন, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চান। একজন আদর্শ আলেম হয়ে মানুষের সঠিক পথপ্রদর্শক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সে। তার এই মহৎ স্বপ্ন পূরণে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা।
পরিবারের সদস্যরা আল আমিনের জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন, যাতে সে ভবিষ্যতে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।



