প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান দখল করেছেন তিনি। বুধবার (১৯ আগস্ট) পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোরআনে হাফেজদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কোরআন মুখস্থ রাখার পাশাপাশি নির্ভুল তিলাওয়াত এবং তাজবিদের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ ও কঠিন মূল্যায়ন সফলভাবে অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত শীর্ষস্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের এই তরুণ। তার এই সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্য ও হিফজ শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এবারের আসরে বিশ্বের ১৩৩টি দেশ থেকে মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। পাঁচটি পৃথক শাখায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাজবিদসহ নির্ধারিত বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা যাচাই করা হয়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের বিচারকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞ বিচারকরাও দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচটি শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নুরুদ্দিন জাকারিয়ার প্রথম স্থান অর্জন বিশেষভাবে গৌরবের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবারের আসরে বিজয়ীদের জন্য নির্ধারিত মোট পুরস্কারের পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।
পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত সমাপনী আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জাকারিয়ার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি কোরআন হিফজে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



