প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আরও সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ব্যয় সূচক, মজুরি সূচক এবং মোট দেশজ উৎপাদনের হিসাব প্রণয়ন পদ্ধতি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দুটি কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে নির্ভুল তথ্যের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় বিদ্যমান হিসাব পদ্ধতির বিভিন্ন দিক পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যের যথার্থতাও খতিয়ে দেখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
নীতিনির্ধারকদের মতে, একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নির্ভর করে সঠিক তথ্যের ওপর। তাই পরিসংখ্যান প্রণয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন উদ্যোগের আওতায় গবেষক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত পণ্য ও সেবার মূল্যতথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের পর একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোগব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পদ্ধতিকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
নতুন কারিগরি কমিটিগুলো বর্তমান হিসাব প্রণয়ন কাঠামোর শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। পরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পরিসংখ্যান ব্যবস্থার এই আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে সরকারি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। এতে জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে।



