রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় বিরোধীদলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী। জাতীয় সংসদকে ঘিরে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকার এককভাবে এগিয়ে যেতে চায় না। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সংসদে থাকা বিরোধী দলের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সরকার। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে যে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়েও সরকার অবগত বলে জানান তিনি।

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটকে সরকারের তৈরি সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানি খাতে যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার প্রস্তুত। সংসদে নিজেদের বক্তব্য, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ বিরোধী দলের রয়েছে। পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বড় ধরনের গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজপথে বড় কর্মসূচি পালন না করে সংকট সমাধানে কার্যকর প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হলে তা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যা লংমার্চের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলে সরকারই সবার আগে এমন কর্মসূচির আয়োজন করত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার কোনো অজুহাত দেখিয়ে মানুষের সমস্যাকে পাশ কাটাতে চায় না। সংকট মোকাবিলায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বক্তব্যে তিনি ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। সে সময় সংকট মোকাবিলার নামে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি এবং ব্যাংকের লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী সুবিধা পেলেও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরকারের ঋণের বোঝা বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংকটের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জনগণের সমস্যা এড়িয়ে যেতে চায় না। বরং কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোতে চায় সরকার।

তিনি আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে কার্যকর রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় সংকট মোকাবিলাই হওয়া উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!