প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালুর জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পুরো রেলপথকে দ্বৈত মিশ্রপথ ও দ্বৈত রেলপথে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা সংযোগপথ নির্মাণ এবং রেলপথে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পথে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কারিগরি প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো ইতোমধ্যে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিক কবে থেকে এই পথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এরপর নির্ধারণ করা হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেনের চলাচল আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ট্রেন পরিচালনার ফলে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রায় সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে দেশের প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রেলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই পথে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দ্বৈত রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন সংযোগপথ নির্মাণ এবং বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি সড়কপথের ওপর চাপ কমিয়ে রেলভিত্তিক যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়া এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ওপর। অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকল্পের বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে আপাতত ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে গেলেও যাত্রীদের নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।



