প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের দাবি, শুধু জ্বালানি খাত নয়, গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রমের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশের পর দলটির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে পানির সমস্যার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, এসব সংকটের প্রভাব শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে কলকারখানা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে একইভাবে মানুষের জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দুর্ভোগ বাড়ে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটাতে পারেনি। বরং নানা কারণে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও সরকার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। দলীয়করণের প্রবণতা বন্ধ না হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সরকারের প্রতি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা জরুরি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
সমাবেশে দলটির নেতারা বলেন, দেশের চলমান সংকটকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একই সময়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের পারিবারিক ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারা সরকারের কাছে দ্রুত সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি কমাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, পানির সংকট দূর করা এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি রাজধানীর পল্টন মোড় অতিক্রম করে বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ জানান।
এদিকে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই দাবিতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দেশের সব মহানগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে তাদের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনার পাশাপাশি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।



