প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
জনগণের প্রত্যাশা ও মৌলিক চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে সরকারের প্রতি জনগণের সহযোগিতা ও আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।
শুক্রবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও মানুষের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তা যেন মানুষের কাছে অর্থবহ হয়ে ওঠে, সে জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থপাচার ও অন্যায়ের মতো নানা অভিযোগের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার পেছনে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য তুলে ধরে রেজাউল করীম বলেন, তারা ইসলামী বিধান অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন। এ পথে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দেন।
সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।



