রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি চান প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি চান প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বার্ষিক ৬ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মাসিক ৫০ হাজার টাকার কম আয়ে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কর কাঠামোতে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা উচিত। এ জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বছরে ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় এখন অনেক সক্ষম ব্যক্তি রয়েছেন, যারা নিয়মিত কর দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তাদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে আধুনিক ও কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন করের ভিত্তি বিস্তৃত হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।

নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আগামী বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে বরাদ্দ কিছুটা কম হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না; প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। ভৌগোলিক গুরুত্ব ও জনসংখ্যার চাহিদা বিবেচনায় ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাস্তবমুখী করনীতি, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!