রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিদ্যমান সংকোচনমূলক নীতিই বহাল রাখা হতে পারে। ফলে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর নতুন মুদ্রানীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রস্তাবিত নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে। নতুন অর্থবছরের শুরুতেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এবারের মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। এমন পরিস্থিতিতে সুদহার কমিয়ে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করা হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। সে কারণে আপাতত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখাই সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশও মনে করছেন, চলতি অর্থবছরের বড় আকারের জাতীয় বাজেট, প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, তারল্য সহায়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়—সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে নতুন করে অর্থের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

সরকার নতুন অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের মানুষই এর প্রভাব অনুভব করছেন।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রণোদনা কর্মসূচি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সহায়ক হলেও এর ফলে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই রাজস্ব নীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখেই এবারের মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন সচল রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতি সুদহারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক ও সংযত অবস্থানই অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা কর্মসূচির অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কঠোর তদারকির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!