রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতে সরকারের নতুন ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতে সরকারের নতুন ঘোষণা

প্রতীকী ছবি

একীভূত হওয়া শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সুবিধা আমানতভিত্তিক পেনশন সঞ্চয় হিসাবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় সংসদে দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সে কারণেই একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মানবিক বিবেচনায় কিছু বিশেষ শ্রেণির আমানতকারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি কিডনি চিকিৎসা, ক্যানসারসহ ব্যয়বহুল ও জটিল রোগে আক্রান্ত, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আলাদা সহানুভূতিশীল নীতি অনুসরণ করা হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহারে কোনো অযৌক্তিক জটিলতার মুখে না পড়েন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের প্রতি জনগণের বিশ্বাস অটুট রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখা এবং ধাপে ধাপে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হবে।

এ সময় বহুল আলোচিত ব্যাংক অবসান আইন, দুই হাজার ছাব্বিশ-এর একটি বিতর্কিত ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও মতভেদ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার পর সরকার ওই ধারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ ঘোষণায় একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সরকারও জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!