প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো ও শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবে। সফরকালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের নতুন ব্যয় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগের ঋণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতার বাইরে গিয়ে নতুন সংস্কার পরিকল্পনা, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে নতুন ঋণ সহায়তার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সফর তারই অংশ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলের সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে দেশের রাজস্ব পরিস্থিতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়নের পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া সরকারের ঘোষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রতি বছর এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।
আইএমএফের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হতে পারে, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির মধ্যে সরকার কীভাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেবে। একই সঙ্গে নতুন ব্যয়ের ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে না পারা। দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আয় কম থাকায় সরকারের উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নতুন ব্যয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অর্থের স্থায়ী উৎস নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নতুন ঋণ পাওয়া নয়, বরং ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংস্কার কার্যকর করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফ প্রতিনিধি দলের এই সফরে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ ঋণ সহায়তা এবং সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



