প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
অবিরাম বর্ষণের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বন্দরের বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণাগার ও খোলা ইয়ার্ডে পানি জমে থাকায় বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বন্দর এলাকার একাধিক সংরক্ষণাগারে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভিজে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানির উচ্চতা হাঁটু সমান হওয়ায় মালামাল পরিবহন এবং খালাস কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি অপসারণের কাজ চললেও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে না।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সতর্ক করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাদের দাবি, বন্দরে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পানিতে ভিজে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। এতে আমদানিকারকদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়ছে।
বেনাপোলের ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই বন্দরে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যন্ত্রের মাধ্যমে পানি সরানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



