প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন বস্ত্রশিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চীনের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিনিয়োগ দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং চীনা প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে ভূমি ইজারা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন এই বিনিয়োগকে দুই দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কারখানাটি নির্মাণ করা হবে। উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ২৪ হাজার টন সুতা এবং ২ কোটি মিটার ধূসর বস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, সেবা ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও পরোক্ষভাবে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেপজা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বেপজার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে উৎপাদন শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, শিল্প খাতের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



