প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চারটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও দুজন করে কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন। আভিভা ফাইন্যান্সে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেনকে। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে পরিচালক সাদেকুর রহমান, এফএএস ফাইন্যান্সে পরিচালক আতাউর রহমান এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে প্রশাসক করা হয়েছে।
পিপলস লিজিংয়ে এখনো প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে চলমান মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানেও প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিযুক্ত প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন বা কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তি আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও তারা দেখভাল করবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় শতভাগে পৌঁছেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।
ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিল না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়। পরে প্রথম ধাপে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়ায় যায়।
অন্যদিকে, চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।



