রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সবজির সরবরাহ কম, চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

সবজির সরবরাহ কম, চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা

সংগৃহীত

বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। পেঁপে ও কাঁচকলা ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজি এখন কেজিপ্রতি ৭০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, রাইয়ানখোলা, মহাখালী, মিরপুর, আগারগাঁও ও কল্যাণপুরের কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং এক হালি কাঁচকলা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে কচুমুখী ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙা ও করলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি পিস লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম উঠেছে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া গাজর ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

রাইয়ানখোলা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মৌসুমভেদে সবজির দামে স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসে। শীতকালে বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু বর্ষাকালে উৎপাদন ও পরিবহনে নানা সমস্যার কারণে অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়।

তবে বিক্রেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ কমার অজুহাতে খুচরা বাজারে অনেক সময় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আগে তুলনামূলক কম টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা গেলেও এখন একই পরিমাণ পণ্য কিনতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দুই-তিন ধরনের সবজি কিনতেই দুই শতাধিক টাকা চলে যাচ্ছে। এতে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে।

আরেক ক্রেতার ভাষ্য, শাকসবজির দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অল্প কয়েকটি পণ্য কিনতেই বাজারের বড় একটি অংশের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজন থাকলেও অনেকেই পছন্দের সবজি কম পরিমাণে কিনছেন।

ক্রেতারা বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যথাযথ তদারকি থাকলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!