প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
প্রায় এক দশক বিরতির পর দেশের শেয়ারবাজারে আবারও চালু হয়েছে রিয়েল-টাইম নজরদারিভিত্তিক তাৎক্ষণিক শেয়ার লেনদেন স্থগিতের প্রক্রিয়া। বাজারে কোনো শেয়ারের দামে হঠাৎ অস্বাভাবিক উত্থান বা অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা দিলে এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহজনক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরদিন আবার লেনদেন স্বাভাবিক করা হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ বছর পর আবারও বাজারে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের চর্চা শুরু হয়েছে।
এর আগে বাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি দেখা দিলে শুধু কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হতো এবং সতর্ক বার্তা প্রকাশ করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরাসরি লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আগাম সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করবে। এতে অযৌক্তিক দরবৃদ্ধি ও কারসাজিমূলক লেনদেন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তাদের মতে, আধুনিক রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা বাজারে অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। প্রযুক্তিগত দিক থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ এই সক্ষমতা রাখে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতাও রয়েছে।
তবে কেউ কেউ মনে করেন, লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোন পরিস্থিতিতে কত শতাংশ দাম বৃদ্ধি বা কত লেনদেন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে স্বচ্ছ নির্দেশিকা থাকলে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
অন্যদিকে ব্রোকারেজ হাউস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র সাময়িক স্থগিত নয়, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে সক্রিয় থাকলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
শেয়ারবাজারের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০১০ সালের বড় ধরনের অস্থিরতার পর নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ চালু হলেও ২০১৭ সালের পর থেকে তাৎক্ষণিক স্থগিতের ক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।
এবার নতুন করে সেই ক্ষমতা ফিরিয়ে এনে আবারও সক্রিয় করা হয়েছে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা। ফলে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সঠিকভাবে কার্যকর হলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কারসাজি কমে আসতে পারে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।


