প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ নেহা ধুপিয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নে এবার প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোকচিত্রীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারও অনুমতি ছাড়া বা অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ছবি ও দৃশ্য ধারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া একটি দৃশ্যে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোকচিত্রীদের উদ্দেশে নেহা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেন বারবার পেছন দিক থেকে ছবি ও দৃশ্য ধারণ করা হয়। তিনি এমন আচরণকে অসম্মানজনক উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান।
নেহা ধুপিয়া বলেন, বিষয়টি শুধু তাঁকে ঘিরে নয়, সব শিল্পীর ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। একজন শিল্পী কিংবা যে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং বারবার আপত্তি জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাই এবার তিনি প্রকাশ্যেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
অভিনেত্রীর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছবি বা দৃশ্য ধারণ করে প্রচার করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন। বিশেষ করে নারী শিল্পীরা এমন ঘটনার বেশি শিকার হন বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন জনসমক্ষে উপস্থিত তারকাদের ছবি ধারণ সংবাদ সংগ্রহের অংশ হতে পারে। তবে সেই কাজের ক্ষেত্রেও শালীনতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।
এর আগেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক অভিনেত্রী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন দিক থেকে ছবি ও দৃশ্য ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা তাঁদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় আসার প্রবণতাও বেড়েছে। এর ফলে অনেক সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিকতার সীমা উপেক্ষিত হচ্ছে। নেহা ধুপিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এবং শিল্পীদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।



