প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছবি ও ভিডিও পরিবর্তন করে সামাজিক যগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রবণতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বিকৃত করে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অস্বস্তিকর।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে কনকচাঁপা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভক্তদের সঙ্গে জীবনের নানা স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি তার ছবি ও ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করে প্রচার করছেন, যা তাকে বিব্রত করছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা গেলেও মানুষের প্রকৃত ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। একজন মানুষের মুখের রেখা, চোখের ভাষা, বয়সের ছাপ কিংবা স্বাভাবিক অবয়বই তার প্রকৃত পরিচয় বহন করে। সেই পরিচয়কে বদলে দিয়ে নতুন কোনো অবয়ব তৈরি করাকে তিনি সমর্থন করেন না।
সংগীতশিল্পী আরও উল্লেখ করেন, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে যে রূপে সৃষ্টি করেছেন, সেটিই সবচেয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক। নিজের চেহারা বা বয়সের পরিবর্তনকে তিনি জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে অন্যরকমভাবে উপস্থাপনের কোনো প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না।
প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের প্রশংসা করলেও এর অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কনকচাঁপা। তার মতে, এই প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও পরিবর্তন করে প্রচার করা নৈতিকতার পরিপন্থী।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতি সীমিত করার কথাও ভাবতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কনকচাঁপার এই বক্তব্য প্রকাশের পর ভক্ত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই তার মতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্বকীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।



