রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দর্শকের হৃদয়ে আজও অমলিন কৌতুক অভিনেতা দিলদার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

দর্শকের হৃদয়ে আজও অমলিন কৌতুক অভিনেতা দিলদার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনয়ের কথা উঠলেই যে কয়েকটি নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম দিলদার। অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা, স্বতন্ত্র সংলাপ উপস্থাপন এবং সহজাত রসবোধের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের নির্মল বিনোদন উপহার দিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণবার্ষিকীতে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই কিংবদন্তি শিল্পীকে।

চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া দিলদার ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহই একসময় তাকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসে। সত্তরের দশকের শুরুতে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। অভিনয় জীবনে তিনি শত শত চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি চরিত্রে নিজস্ব স্বকীয়তার ছাপ রেখেছেন।

দিলদারের অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল সাধারণ একটি দৃশ্যকেও প্রাণবন্ত করে তোলার ক্ষমতা। তার উপস্থিতি পর্দায় এলেই দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হতো আনন্দের আবহ। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি কৌতুক অভিনয়ের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান। শুধু সহশিল্পী হিসেবেই নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবেও তিনি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।

অভিনয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মানগুলোর একটি অর্জন করেন। সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভের মাধ্যমে তার দীর্ঘ পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি মেলে। তবে দুঃখজনকভাবে একই বছর তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর পর বাংলা চলচ্চিত্রে বহু কৌতুক অভিনেতার আগমন ঘটলেও দর্শকের হৃদয়ে দিলদারের শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেলেও তার অভিনীত চরিত্র, সংলাপ এবং হাস্যরস এখনো সমানভাবে দর্শকদের আনন্দ দেয়। কর্ম ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!