প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১০:২৭ এএম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও ঘটনাটি ঘিরে আলোচনা থামেনি। আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। এবার এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন অভিনেত্রী শাবনূর।
শাবনূর তাঁর বক্তব্যে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের বক্তব্যের অসংগতি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, একই ঘটনার বিষয়ে রিজভী বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় একসময় রিজভী নিজেকে সম্পৃক্ত দাবি করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং পরে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথাও বলেছিলেন বলে দাবি করেন শাবনূর। পরবর্তী সময়ে অবশ্য রিজভী এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে বক্তব্য দেন।
শাবনূর আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারে রিজভী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরস্পরবিরোধী ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ও বিয়ে হয়েছিল বলেও রিজভী দাবি করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। শাবনূর এসব বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রিজভীর সঙ্গে তাঁর কখনো কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না।
সালমান শাহকে তিনি ব্ল্যাকমেইল করতেন—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শাবনূর। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্রজীবনে সালমান শাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের মতো। সালমানের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্যে সালমান শাহর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য এসেছে বলে উল্লেখ করেন শাবনূর। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া একজন ব্যক্তির সর্বশেষ দাবিকে কতটা নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করে শাবনূর বলেন, সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান নেই। তবে তিনি চান, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক।
শাবনূর আরও বলেন, সালমান শাহ শুধু তাঁর সহশিল্পী ছিলেন না; ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। তাঁর অকাল মৃত্যু আজও কষ্ট দেয়। তাই ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নতুন করে নানা বক্তব্য সামনে আসায় পুরোনো বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কার বক্তব্য সত্য এবং প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।



