প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
দেশের রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে দল ও নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে সুবিধাবাদীদের প্রবেশের প্রবণতা থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন আসিফ আকবর।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব ও ক্ষমতার অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। একসময় যারা প্রভাবশালী থাকে, পরবর্তী সময়ে তাদের জায়গায় অন্যরা আসে। তার মতে, শুধু পোশাক বা বাহ্যিক পরিচয়ের পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
বিএনপি সরকারে আসার আগের সময়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ আকবর বলেন, বর্তমানে যারা ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়, ভবিষ্যতে তাদের অনেকেই হয়তো আগের অবস্থানে থাকবে না। একইভাবে তিনি অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতিতেও এমন পরিবর্তন দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোতে সুবিধাবাদীদের প্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশ ও নিজ নিজ দলকে ভালোবাসেন, তাদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিক সংগঠনে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। দলীয় রাজনীতি যতদিন থাকবে, এ ধরনের প্রবণতাও কোনো না কোনোভাবে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংগীতশিল্পী। তার ভাষায়, বর্তমানে মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, কমিউনিস্টসহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু এসব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আসিফ আকবর বলেন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য সাধারণ মানুষকেও কথা বলতে হবে। তিনি নিজেও নিজের অবস্থান থেকে অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলে যাবেন বলে জানান।
নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিতর্ক বা সমালোচনার ভয় পেয়ে তিনি পিছিয়ে যাবেন না। বরং দেশের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে নিজের মতো করে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন।
তিনি আরও জানান, তার ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই; সংগীতই তার মূল পেশা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশে থাকা পরিচিতজনদের কাছ থেকেও তিনি নানা ধরনের মন্তব্য শুনছেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন কমিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।



