প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
বিয়ে এবং চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তাকে যৌন ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তেলেগু চলচ্চিত্রের পরিচালক পবন সাধিনেনির বিরুদ্ধে। ওই নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।
পুলিশ ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর সঙ্গে পরিচালকের পরিচয় হয় এক বছরেরও বেশি সময় আগে। শুরুতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সম্পর্কের প্রথম দিকে পরিচালক তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত পরিকল্পনা নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এমনকি তিনি যে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই নারী জানতে পারেন, পরিচালক আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রশ্ন করলে পরিচালক নিজের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন—এমন দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে তিনি সম্পর্কটি চালিয়ে যান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিচালকের আচরণে পরিবর্তন আসে। চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং বিয়ের বিষয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সম্পর্কটি মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তার দাবি, তিনি বিভিন্ন সময় নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা পরিচালককে জানিয়েছেন এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। এমনকি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এসব বিষয় উপেক্ষা করে তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভিডিও কলের মাধ্যমেও তাকে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো। ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি আতঙ্কজনিত শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েও পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাননি। ভিডিও ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট বিকেলে পরিচালকের সঙ্গে ওই নারীর বাড়িতে একটি ঘটনা ঘটে। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এতে মুখ ও চোখের চারপাশে ফোলা, মাথায় ব্যথা এবং পিঠে আঘাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযোগকারী। পরে গোলকোন্ডা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করে।
পুলিশের তদন্তের পর পরিচালক পবন সাধিনেনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে হাজির করার পর তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তবে পরিচালকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের ফলাফলের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পবন সাধিনেনি তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত একজন পরিচালক। ২০১৩ সালে একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক নির্মাণ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তার পরিচালিত একটি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েও আলোচনা ছিল। এতে দক্ষিণ ভারতের পরিচিত কয়েকজন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করছেন।
পরিচালকের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় উপেক্ষা করে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গুরুতর হলেও অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া প্রমাণ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
এদিকে পুলিশি তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে। অভিযোগে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।



