প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের পর্দায় নিয়মিত নায়ক হিসেবে দেখা যেত অমিত হাসানকে। নব্বইয়ের দশক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন এই অভিনেতা। নায়ক চরিত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে আগের তুলনায় বড়পর্দায় কম দেখা গেলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি অমিত হাসান। বেছে বেছে কাজ করছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে এসে উপস্থিত হন এই অভিনেতা। সেখানে নিজের ব্যক্তিজীবন, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অভিনয়জীবন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ধর্মচর্চা ও অভিনয়কে একে অপরের পরিপন্থী মনে করেন না অমিত হাসান। তার মতে, ধর্ম একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, আর অভিনয় তার পেশা। তাই ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের পেশাগত কাজও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
অমিত হাসান বলেন, ধর্ম তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি অভিনয় করেন বলে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করবেন না, আবার ধর্ম পালন করতে গিয়ে অভিনয় ছেড়ে দেবেন—বিষয়টি তিনি এভাবে দেখেন না। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাস রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনয়কে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এই পেশার মাধ্যমেই মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে অভিনয়কে হঠাৎ করে জীবন থেকে বাদ দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না তিনি।
অমিত হাসানের ভাষ্য, চলচ্চিত্র ও অভিনয়ই তার কর্মক্ষেত্র। এই কাজের মাধ্যমেই মানুষ তাকে চিনেছে এবং ভালোবেসেছে। তার পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশা জড়িয়ে রয়েছে। তাই দায়িত্বশীলভাবে নিজের কর্মজীবন চালিয়ে যেতে চান তিনি।
ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অমিত হাসান। তিনি জানান, নিয়মিত নামাজ আদায়, রোজা রাখা ও সামর্থ্য অনুযায়ী হজ পালন করা তার ধর্মীয় দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চান তিনি। কারণ অভিনয় তার জীবনের কর্ম এবং পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধর্ম ও কর্মকে আলাদা জায়গা থেকে দেখার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন মানুষের জীবনে ধর্মীয় দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের কর্মের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন। তিনি নিজের জায়গা থেকে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনেরও চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
নিজের ধর্মীয় জীবন কিংবা অভিনয়জীবনের বিচার অন্যের হাতে দিতে চান না এই অভিনেতা। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ তার দায়িত্ব কতটা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছেন, তার প্রকৃত বিচার সৃষ্টিকর্তাই করতে পারেন। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি জানান, তিনি তার জায়গা থেকে সবসময় ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা অমিত হাসানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অভিনয় ও ধর্মীয় জীবনকে তিনি দুটি পৃথক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। একদিকে নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় কর্তব্য পালন, অন্যদিকে মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা অভিনয়জীবন—দুটিই নিজের মতো করে চালিয়ে যেতে চান তিনি।



